তথ্যমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানের সাক্ষাৎ
ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন? এই প্রশ্ন তো আজকে জনগণের। এ প্রশ্ন আজকে মানুষের মুখে মুখে।’
আজ বুধবার সকালে বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আরাফাত রহমান কোকোর পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বন্দিনী মা—বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার চোখে গোল মরিচের স্প্রে করা হয়েছে। তার চোখে ক্ষত ছিল। উনার চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠিক ওই মুহূর্তে গোল মরিচের স্প্রে করে তাকে আরও বেশি অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। এই হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক মিল আছে বলে আমার মনে নাই। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। জিয়াউর রহমান এ দেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানসহ বন্দি। তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই—না তার পিতার, তার না নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?’
সাম্প্রতিক একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সেখানে দেখানো হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় একাত্তর হালকা, পাল্লাটা উপরের দিকে চলে যায়। আর জুলাই নিচের দিকে নেমে আসে।
এগুলো হচ্ছে ছোটলোকামি। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন একাত্তরে, ছিলেন নব্বইয়ে, ছিলেন ছিয়াশিতে, সব সময় আপনারা সেই ভূমিকা রেখেছেন। এখন জুলাইকে পুঁজি করতে চাচ্ছেন।’
জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপি প্রত্যক্ষ সমর্থন জানিয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। ‘তারেক রহমান লন্ডন থেকে বারবার ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন এবং সবাইকে অংশগ্রহণ করতে বলেছেন। তো এটা তো ইতিহাস।’
