ভোলার মেঘনা ভাঙনরোধে ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, বিজেপির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ছাত্রশক্তির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ভোলার সন্তান আবু সাঈদ

ভোলার বাণী ডেস্ক ॥
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন দায়িত্ব পেলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সক্রিয় ছাত্রনেতা ও ভোলার সন্তান মোঃ আবু সাঈদ (এম এ সাঈদ)। তাকে ছাত্রশক্তির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পুর্নাঙ্গ করা হয়, সেখানে ১১১ সদস্যের কমিটিতে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর এবার বৃহত্তর বরিশাল বিভাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি দিয়ে পথচলা : ভোলায় বেড়ে ওঠা মোঃ আবু সাঈদের ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বিভিন্ন নাগরিক ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২২ সাল থেকেই তিনি Student Against Torture (SAT)-এর মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিস্তৃত হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক-সামাজিক ইস্যুতে সক্রিয়তার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করেন।
কোটা আন্দোলন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন : ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রূপ নেয়, তখন এর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের শুরু থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে আন্দোলনটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-এর ব্যানারে বিস্তৃত হয়। এই সময় মোঃ আবু সাঈদ (এম এ সাঈদ) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে এ পরিচয়েই উল্লেখ করা হয়েছে। ভোলায় আন্দোলনের কর্মসূচি ও পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়।
আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও আন্দোলনকেন্দ্র। ক্যাম্পাসের মিছিল, সমাবেশ, শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রাজপথের আন্দোলন থেকে সাংগঠনিক রাজনীতির নতুন অধ্যায় : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এবং এর পুনর্গঠন ও নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ছাত্রশক্তির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন মোঃ আবু সাঈদ।
বরিশাল বিভাগে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার দায়িত্ব থাকবে তার ওপর।
আন্দোলনের কেন্দ্র থেকে বিভাগীয় সংগঠনের দায়িত্বে : একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই তরুণ এখন বৃহত্তর পরিসরে সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন। ২০২২ সালে ছাত্র ও মানবাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ড দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়তা, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে নতুন ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম—এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। ভোলার সন্তান মোঃ আবু সাঈদের জন্য এই দায়িত্ব একই সঙ্গে নতুন সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এবং বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে তার রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
