সর্বশেষঃ

পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান, ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৯৯ নম্বর বড় রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে চলছে পাঠদান। ছোট ও অপ্রতুল শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ের ৭৬ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে তৎকালীন বড় মলনচড়া ইউনিয়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে ২০০৩ সালে এটি শম্ভুপুর ইউনিয়নের কোড়ালমারা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিকল্প হিসেবে টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে তিনটি ছোট টিনশেড শ্রেণিকক্ষ এবং একটি ছোট অফিসকক্ষ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলো এতটাই কাছাকাছি যে একটি কক্ষে পাঠদানের শব্দ পাশের কক্ষেও পৌঁছে যায়। ফলে একাধিক শ্রেণিতে একই সময়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। টিনশেড ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেই টিউবওয়েল। পর্যাপ্ত শৌচাগার সুবিধাও নেই। পানি পান ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশও সীমিত। পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার উপকরণ নেই। বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত সমাবেশ হলেও শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর তুলনায় তাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকটাই অপ্রতুল। বিশেষ করে গরমের সময় টিনের ছাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে এলাকায় বিকল্প বিদ্যালয় বা সুবিধাজনক ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানদের সেখানে পাঠাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা মুক্তা বলেন, ‘মূল পাকা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় টিনশেডে পাঠদান করাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং কখনো জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়। গরমের সময় টিনের ছাদ খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শিশুদের ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, টিনশেড হওয়ায় নিরাপত্তা সমস্যাও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে টিন কেটে চোরেরা বিদ্যালয়ে ঢুকে ফ্যান, বাতি ও আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭৬ জন।

শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

তজুমদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম বলেন, তিনি এ উপজেলায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অস্থায়ী টিনশেডের বদলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়টিতে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার মানও উন্নত হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।