সর্বশেষঃ

ভোলায় মিতুর মৃত্যু: ‘হত্যা নয়, আত্মহত্যা’ দাবি স্বামীর পরিবারের, সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান

ভোলা শহরের উকিলপাড়া গোরস্থান রোডের গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য কাটেনি। একদিকে মিতুর পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে স্বামীর পরিবারের দাবি—এটি আত্মহত্যার ঘটনা। এ অবস্থায় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বামীর স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় ভোলার একটি স্থানীয় পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন মিতুর স্বামী সোহাগের মামা মো. বজলুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তার প্রতিবাদ জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে বজলুর রহমান বলেন, ২০২১ সালে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সোহাগ ও মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় প্রয়োজনীয় স্বর্ণালঙ্কার ও উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে প্রায় এক বছর আগে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন শুরু হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। বজলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিতু প্রথমে অলঙ্কারগুলো বাবার বাড়িতে থাকার কথা জানান। পরে তিনি স্বীকার করেন, তার বাবা-মা সেগুলো কোথাও বন্ধক রেখেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ জুন রাতে পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে যান। পরদিন ৪ জুন সকালে সোহাগ তার শিশু মেয়েকে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। সকাল ৮টার দিকে সোহাগের মা মিতুর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সোহাগকে খবর দেন। পরে সোহাগ বাসায় ফিরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মিতুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করা হয়। পরে পুলিশ ও মিতুর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

মিতুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘যাচাই-বাছাই ছাড়া’ কিছু তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এ কারণে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ ও গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

তবে মিতুর পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যদিও স্বামীর পরিবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও সংগৃহীত আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।