বোরহানউদ্দিন প্রতারণার মাধ্যমে ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার
বোরহানউদ্দিন প্রতারণার মাধ্যমে ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার

ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে ট্যাক্স আদায় করতে যান এক যুবক। এ সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা তাঁর পরিচয় ও ট্যাক্স আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই যুবক নিজের নাম মো. রিয়াজ এবং পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগকৃত খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর বলে পরিচয় দেন। তবে ট্যাক্স আদায়ের অনুমতি ও বৈধতার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
পরে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ওই যুবককে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে চক্রের আরেক সদস্য তাঁকে নিয়ে যেতে এলে স্থানীয়রা দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তির করা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটার ট্যাক্স আদায় করছিল। এ সময় টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘর থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাঁদের। এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও সচিবদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং পরিষদের চৌকিদারদের সহযোগিতা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। হাসাননগর ইউনিয়নের সচিব ও প্রশাসকের কাছ থেকে তিনি যতটুকু জেনেছেন, তাতে ট্যাক্স উত্তোলনের সময় আটক ব্যক্তিদের তাঁরা সহায়তা করেছেন বলে জানতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আরোপের ক্ষমতা রয়েছে। পরিষদ নিজস্ব উদ্যোগে অথবা অন্যদের মাধ্যমে ট্যাক্স আদায় করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, এ ঘটনায় দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
