ফিরছে গ্রাম সরকার, যেভাবে চলবে কার্যক্রম

প্রায় ৪৪ বছর পর আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের একটি করে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে, যার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর এ ব্যবস্থা চালু হতে পারে। বিএনপি নেতাদের মতে, গ্রাম সরকার কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন ও সরকারি সেবায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সাধারণ সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন প্রধান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হবেন উপদেষ্টা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, যুবক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের কমপক্ষে ১০ শতাংশ ভোটারের হ্যাঁ-না ভোটের বিধানও রাখা হয়েছে। তবে সরাসরি জনগণের ভোটে সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকছে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গ্রাম সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থার আওতায় গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট উন্নয়নের পরিকল্পনা, চলমান প্রকল্প তদারকি, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও বিশুদ্ধ পানির কার্যক্রমে সহযোগিতা করার কথা রয়েছে। ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে তা বিলুপ্ত হয়। পরে ২০০৩ সালে নতুন আইন করা হলেও ২০০৫ সালে হাইকোর্ট আইনটিকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর ঘোষণা করেন। ২০০৯ সালে সংসদে আইন রহিতকরণের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। এবার নতুন করে প্রণীত খসড়াটি মতামতের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
