পথে-ঘাটে পথকুকুরের আতঙ্ক, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত ভোলা ?
চরফ্যাশনে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ট্রলার, গাছে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচলেন ৬ জেলে

চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥
ভোলার চরফ্যাশনে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে একটি মাছ ধরা ট্রলার। এ সময় ট্রলারে থাকা ৬ জেলে নদী সাঁতরে চরজমিন কালির চরে গিয়ে বনের গাছে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কলুর দোকান সংলগ্ন কাজীর খালের মুখে মেঘান নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মাঝি আব্বাসের নেতৃত্বে ইউসুফ, সবুজ, সোহেল, আল-আমীন ও নিরব পাটোয়ারীসহ ৬ জেলে মাছ ধরা ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে যান। বিকেলের দিকে শিবচরের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে নদী উত্তাল হয়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হলে ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এ সময় জীবন বাঁচাতে ৬ জেলে নদীতে নেমে সাঁতরে চরজমিন কালির চরে পৌঁছান। পরে তারা বনের গাছে আশ্রয় নেন। চরের মধ্যে বনে অবস্থানর থেকে শুক্রবার পরিবারের সদস্যদের কাছে খবর পাঠালে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ট্রলার মাঝি আব্বাস বলেন, ঝড়ের সময় নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে যায়। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে জীবন বাঁচাতে আমরা নদীতে নেমে সাঁতরে চরে উঠি এবং বনের গাছে আশ্রয় নেই। পরে পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং জেলেদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া মাছ ধরা ট্রলারটির সন্ধানে খোঁজাখুঁজি করে চরজমিন কালির চরের বনের মধ্যে ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একটি স্টিলবডি জাহাজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারটি উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলার মালিক মো. মফিজ বলেন, ঝড়ে ট্রলারটির প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আড়ত মালিকের দেনা ও এনজিওর ঋণ রয়েছে। নতুন করে আরেকটি ট্রলার তৈরি করতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
স্থানীয় চরকচ্ছপিয়া মৎস্য ঘাটের সভাপতি মো. আনচার বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি লণ্ডভণ্ড হওয়ায় জেলেরা বড় ধরনের বিপদের মধ্যে পড়েছিলেন। তবে তারা নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারটি মেরামত করে জেলেরা যাতে আবার মাছ ধরার কাজে ফিরতে পারেন, সে জন্য সরকারি সহযোগিতার দাবী জানাচ্ছি।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আবেদন করলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও নৌকার বিষয়ে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
