সর্বশেষঃ

এমভি ওশান পার্লে ভোলার চর কুকরী-মুকরী ও তারুয়ার পথে পর্যটকেরা

আনিসুর রহমান ,দক্ষিণ আইচা (ভোলা) প্রতিনিধি

নদীর বুক চিরে বিলাসবহুল পর্যটকবাহী জাহাজ। চারপাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ বনাঞ্চল, বালুচর আর উপকূলের নৈসর্গিক দৃশ্য। এমন ভিন্নধর্মী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিতে ভোলার উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র চর কুকরী-মুকরী, তারুয়া ও নারিকেল বাগানের পথে যাত্রা করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা।

বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট জাহাজ এমভি ওশান পার্ল ঢাকার পূর্বাচল-শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে পর্যটকদের নিয়ে এ যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে ভোলার চর কুকরী-মুকরী, তারুয়া, চর হেয়ার ও সোনার চরসহ উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজে অবস্থান, খাবার এবং নদীপথে যাতায়াতের সুবিধার মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য একটি সমন্বিত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নদীপথে চলার সময় উপকূলের প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘোরার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরী-মুকরী দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র। এখানকার বনাঞ্চল, নদী-খাল, নারিকেল বাগান ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। অন্যদিকে তারুয়ার বিস্তীর্ণ বালুচর ও সমুদ্রঘেঁষা নির্জন পরিবেশও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।

ভোলায় আসা পর্যটকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানায় ভোলা জেলা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আরিফুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান রাকিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রুমী এবং দক্ষিণ আইচা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিছুর রহমানসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পর্যটকদের স্বাগত জানিয়ে ভোলা জেলা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান জুয়েল বলেন, ভোলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, ভোলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে দেশের মানুষের কাছে আরও পরিচিত করে তুলতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান রাকিব আগত পর্যটকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

দক্ষিণ আইচা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিছুর রহমানও পর্যটকদের স্বাগত জানান। তিনি ভোলার উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য দেশজুড়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে, এমভি ওশান পার্লে আসা পর্যটকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উচ্ছ্বাস। নদীপথে বিলাসবহুল জাহাজে ভ্রমণের পাশাপাশি চর কুকরী-মুকরী, তারুয়া ও নারিকেল বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। অনেকে ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নদীপথকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভ্রমণ আয়োজন ভোলার উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে চর কুকরী-মুকরী, তারুয়া ও আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশের পর্যটকদের কাছে আরও পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।