সর্বশেষঃ

তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি

ভোলার তজুমদ্দিনে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত দুই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র আটজন। তাঁদের মধ্যে দুজন বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। চারটি কনসালটেন্ট পদের সব কটিই শূন্য। এ ছাড়া ফার্মাসিস্ট, হিসাবরক্ষক, রেডিওগ্রাফার, ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল নেই।

স্বাস্থ্য পরিদর্শকের দুটি পদই শূন্য। ৩২টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে আটটি, চারটি অফিস সহায়কের মধ্যে তিনটি এবং তিনটি ওয়ার্ডবয়ের মধ্যে দুটি পদ খালি রয়েছে। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগের বাড়তি চাপের সময়ে জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা ছাড়াও মেঘনার চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, অন্যান্য জনবল ও ওষুধের সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগীদের ভোলা সদর হাসপাতাল, বরিশাল কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।

চরাঞ্চলের জরুরি রোগীদের জন্য সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীপথে জরুরি রোগী পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন তাঁর দুই বছরের ছেলে মাহাদিকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে শিশু কনসালটেন্ট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর, বরিশাল কিংবা ঢাকায় যেতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজীব বলেন, বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা দিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আরও চিকিৎসক পদায়ন করা হলে সেবা দেওয়া সহজ হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব কবির বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। বর্তমানে ওষুধের যে সংকট রয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে তা সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার এই সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল দ্রুত পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সচল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে তজুমদ্দিন ও চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার প্রধান সরকারি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর বাড়তি চাপ সামলাতে দ্রুত জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন স্থানীয়দের প্রধান দাবি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।