ইঞ্জিন বিকল, ৫ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে

ভোলার চরফ্যাশন থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফিশিংবোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে। উত্তাল সাগরের কারণে কাছাকাছি থাকা অন্য মাছ ধরার ট্রলারগুলোও তাদের কাছে যেতে পারছে না বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলার হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের ফরিদ মাঝির মালিকানাধীন ফিশিংবোটটি গত শনিবার মধ্যরাতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে আটকা পড়ে। বোটটি রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন সাগর মোহনা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে গভীর সাগরে অবস্থান করছে বলে স্বজনদের ভাষ্য।
বোটে থাকা জেলেদের মধ্যে হানিফ মাঝিও রয়েছেন। তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সর্বশেষ তাঁর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন হানিফ মাঝি জানান, সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় কোনো ট্রলার তাদের কাছে আসতে পারছে না। কয়েকটি ট্রলারের জেলেদের হাতের ইশারায় সহায়তা চাওয়া হলেও ঢেউয়ের কারণে তারা এগিয়ে আসেননি।
মেহেদী বলেন, বোটটির নিয়ন্ত্রণ না থাকায় জেলেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের মাধ্যমে উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, বিষয়টি চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত জেলেদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
কোস্টগার্ড রাঙ্গাবালীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সোনারচর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই।
নৌ পুলিশের ইনচার্জ জায়েদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর সাগরে অবস্থান করা অন্যান্য জেলে ও ট্রলারগুলোকে ওই বোটের জেলেদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, বিষয়টি ভোলা দক্ষিণ জোন কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাঙ্গাবালী উপজেলা কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। শিগগিরই জেলেদের নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে উত্তাল সাগরে পাঁচ দিন ধরে আটকে থাকা ১৮ জেলেকে দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
