সর্বশেষঃ

সংবাদ প্রকাশের পর এমপির নির্দেশনায় কলাতলীর ভাঙনকবলিত সড়ক রক্ষায় রাজিব চৌধুরীর উদ্যোগ

আবদুর রহমান সোয়েব, মনপুরা প্রতিনিধি

ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জোয়ারের স্রোতে ভাঙনকবলিত সড়ক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এবার সড়কটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চরফ্যাশন-মনপুরার সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও মনপুরা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়ক রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিনি হিন্দু আবাসনের পূর্ব পাশে ২ নম্বর আবাসন এলাকায় মিয়া জমিসাহ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়া ভাঙনকবলিত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়কের বিভিন্ন অংশের ভাঙন, জোয়ারের পানির স্রোতের গতিপথ এবং সড়কসংলগ্ন মসজিদ, মনপুরা দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও কবরস্থানের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে, জোয়ারের তীব্র স্রোতে সড়কটির একাধিক অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রায় তিন মাস ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশনায় রাজিব চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং সড়কটি তাৎক্ষণিকভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ সময় সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মাটির বস্তা ফেলার কাজ হাতে নেওয়া হয়। জোয়ারের পানির তীব্র স্রোত যাতে সরাসরি সড়কের পাড়ে আঘাত করতে না পারে এবং নতুন করে মাটি ধসে পড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজিব চৌধুরী বলেন, সড়কটি ভাঙনের কারণে স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সড়কের পাশেই মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান রয়েছে। এগুলো রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশনায় আপাতত জরুরি ভিত্তিতে মাটির বস্তা ফেলে সড়কটি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, শুধু সাময়িকভাবে মাটির বস্তা ফেললেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সড়কটি স্থায়ীভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটি আরও ভেঙে গেলে পুরো এলাকার মানুষের চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, আমরা নিজেদের উদ্যোগে কয়েকবার বাঁধ দিয়ে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জোয়ারের স্রোতে বারবার তা ভেঙে যায়। এখন মাটির বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছি। তবে স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার।

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া মাটির বস্তা ফেলার উদ্যোগের পাশাপাশি সড়কটির স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে সড়কটি রক্ষার পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও সুরক্ষিত থাকবে বলে আশা করছেন তারা।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।