সর্বশেষঃ

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬: হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন ভোলার সন্তান ডা. ইব্রাহিম খলিল নাঈম

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস ২০২৬: হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা

আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর, সারা বিশ্বের মোট ১২৯ টি দেশে একযোগে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য “হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি।”
অসংক্রামক রোগ (Non-Communicable Diseases) নিয়ে ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি (World Physiotherapy)-এর চার বছরব্যাপী প্রচারাভিযানের প্রথম ধাপ এটা, যার পরবর্তী বছরগুলোতে যথাক্রমে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এবং সিওপিডি নিয়ে কাজ করা হবে।
World Physiotherapy-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (CVD) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধানতম কারণ। প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ এই রোগে মারা যান, যা মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর ৩০ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ ও স্ট্রোক। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, এই মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই প্রতিপাদ্য শুধু উন্নত বিশ্ব নয়, বরং এটি আমাদের দেশের জন্যও একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্য-চ্যালেঞ্জ।
হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্টরা উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে ব্যায়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে।
এছাড়া, যারা ইতিমধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের জন্য ফিজিওথেরাপিস্টরা কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন, যা ভবিষ্যতে হৃদরোগজনিত জটিলতা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
তৃতীয়ত, পুনর্বাসনের (Rehabilitation) ক্ষেত্রে স্ট্রোক-পরবর্তী রোগীদের জন্য এক্সারসাইজ-ভিত্তিক ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী কমিউনিটি পুনর্বাসন পর্যন্ত শারীরিক কার্যক্ষমতা, চলাফেরার সক্ষমতা, ভারসাম্য এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। স্ট্রোকের পর একজন রোগীর জন্য চেয়ার থেকে ওঠা, ঘরের ভেতর হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা বা দৈনন্দিন কাজে ফিরে যাওয়া ইত্যাদি কাজগুলোই আসলে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য, যেখানে শারীরিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রোগীর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা যেমন- খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের প্যাটার্ণ ইত্যাদি হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অন্যতম কারণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিজিওথেরাপি সেবার প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। হাসপাতাল, এনজিও এবং প্রাইভেট ক্লিনিক পর্যায়ে নূন্যতম গ্রাজুয়েশন ফিজিওথেরাপিস্টদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং তাদেরকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া গেলে তা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হতে পারে।
ফিজিওথেরাপি শুধুমাত্র ব্যথা উপশমের চিকিৎসা নয়, বরং এটি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, জীবনরক্ষাকারী পুনর্বাসন এবং স্বাধীন জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদানকারী একটি বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি।

(Statistical information source: World Physiotherapy’s official 2026 theme announcement and campaign materials)

লেখক:
ডা. ইব্রাহিম খলিল নাঈম, পিটি
বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি (সিআরপি-ঢাবি)
এসএসসি ইন ফিজিওথেরাপি ফেলো (পাইজার-বিইউপি)
জুনিয়র কনসালটেন্ট (ফিজিওথেরাপি)
সানসাইন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, উত্তরা
সদস্য, বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন (বিপিএ)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।