৬ দফা দাবি বাল্কহেড মালিকদের, না মানলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৫১

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) : এই প্রথম রেশমী নিজকে আবিস্কার করল। সংসার জগৎ ছাড়া বাহিরে যে একটা জগৎ আছে সেটা আসীন করল। যদিও তার স্বামী তার রুপের জন্য তাকে নিজের মনে স্থান দেয়নি। কিন্তু সমাজ সেটা ভুল করেনি। রেশমী প্রতিভার জন্য সমাজ তাকে শ্রেষ্ঠ আসন দিল। রেশমী শান্তি পেল, স্বস্তি পেল, আশ্বাস পেল, হাক ছেড়ে বাঁচল। বিশ্ব ¯্রষ্টার নিকট কৃতজ্ঞতা জানাল। রেজা রেশমীকে নিয়ে নগুড়ায় বদলী হল। রেশমীর ৩ সন্তান, মিঠু, সোহেল, ঝরা। রেশমী সংসারপ্রিয়, সংসারের জন্য যতটুকু তার আয়ত্বে ততটুকু সে করে যায়। বগুড়া একটি শিক্ষিত এলাকা। শিক্ষা-দীক্ষা, নাচ, গান, অভিনয় তারা খুব পারদর্শী। কৃষ্টি কালচারের উন্মুক্ত দুয়ার। সেখানের নবাব বাড়ী দেখার মত জায়গা। সেই নবাবী কৃষ্টি কালচারের স্মৃতি এখনও বহমান। এখনো জীর্ণ খাচায় শীর্ণ বাঘটা ক্ষুধার জ্বালায় ঘুরে ঘুরে বেড়ায়।
কৃত্রিম সিংহটা জ্বলজ্বল চোখে হা করে দাঁড়িয়ে আছে। সিংহ দরজায় এখন আর সেই বন্দুকধারী দারোয়ান নেই। তবে বড় তালাটা ঝুলছে অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে। রেশমী সেগুলো প্রায়ই দেখতে যায়। তার সাহিত্যের ছোঁয়া যেন এখানে আছে। করতোয়া নদীটা এঁকে-বেঁকে বয়ে গেছে। বেগমদের প্রমোদ উদ্যান থেকে নদী পর্যন্ত একটা ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে। দু’ধারে বনলতায় বনফুল লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি রং নিয়ে আপন মহিমায় ভাস্বর। রেশমী ততক্ষণ সময় নিয়ে করতোয়া নদীর তীরে বসল। হরেক রকম কল্পনার জগতে তিনি হারিয়ে গেলেন।
রেশমী উঠে দাঁড়াল না, এ শুধু ক্ষনিকের মোহ, মায়া, এ সব কিছু নয়। আজ যেখানে এত জাক-ঝমক। কাল হয়ত সেখানে ঘাসে ঘাসে গভীর জঙ্গল ঢেকে যাবে। মিঠু কাঁদতে লাগল মা বাড়ী চল। রেশমী বাড়ী ফিরে এল। ২৫ পয়সা রিক্সাওয়ালাকে দিতেই রিক্সাওয়ালা নিয়ে এল। সত্যি এরা এত গরীব, এই চার আনা পয়সার জন্য এই নবাব বাড়ী থেকে কাটনা পাড়া নিয়ে এল। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এরা পয়সা রোজগার করে। তাতেও স্ত্রী-পুত্রের ভরন-পোষণ হয় না। ঘরে ফিরে এসে দেখে ছেলে-মেয়েরা ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদে। ঘরে এসে দেখে ছেলে-মেয়েদেরকে মারধর করে। ঘরের স্ত্রীকে পেটায়। এদের ক্ষমা করা যায়। কিন্তু যারা বিদ্যা শিক্ষার বড়াই করে, মুখে বড় বড় কথা বলে। টাই, স্যুট পড়ে ভদ্রতার মুখোশ পড়ে অযথা ঘরের স্ত্রীকে মারধর করে তাদের ক্ষমা করা যায় না।
রেশমী বগুড়ায় এসে বগুড়ার মহিলা সমিতির সভাপতি মিসেস রহমানের সাথে পরিচিত হল। তিনি রেশমীকে তার অর্গানাইজেশনে আসতে বললেন। রেশমী রেজার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মিসেস রহমানের সাথে কাজে যোগ দিলেন। মিসেস খাতুন এ মহিলা সমিতির সেক্রেটারী, ভদ্র মহিলা বেশ বয়স্ক ও অমায়িক। রেশমী প্রায়ই মহিলা সমিতির মিটিং এ আসে। মিসেস খাতুন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকা, ভদ্রমহিলা বিধবা সব সময়ই একখানা সাদা কাপড় ও সাদা ব্লাউজ তাঁর সঙ্গে শোভা পায়। এখনও এ বসয়ে কাজকর্মে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা আছে। (চলবে——-)
