সর্বশেষঃ

দস্যুদের নির্যাতনে দুই জেলে হাসপাতালে ভর্তি

মনপুরায় অর্ধলক্ষ টাকা মুক্তিপণে ১৬ জেলে উদ্ধার

ভোলার মনপুরার মেঘনায় ইলিশ শিকারের সময় জলদস্যু বাহিনী এক জেলে ট্রলারসহ ১৬ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় হাতিয়ার গহীন বনে। পরে দস্যুবাহিনী মুক্তিপন ৩ লক্ষ টাকার জন্য অপহরণকৃত জেলেদের নির্যাতন সহ ট্রলার মালিক মতিন পাটোয়ারীকে মুঠোফোনে হুমকি দেয়। পরে অর্ধলক্ষ টাকায় রফাদফা হলে জেলেদের ছেড়ে দেয় দস্যু বাহিনী। এদিকে দস্যুদের নির্যাতনে ট্রলারের মাঝি ও একজেলে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশের মাধ্যমে দস্যুদের অর্ধলক্ষ টাকা দিলে ছেড়ে দেওয়া হয় অপহরণকৃত জেলেদের। এর আগে মঙ্গলবার ভোর রাত ৪ টায় মেঘনার মোক্তারদোন এলাকায় ইলিশ শিকারের সময় জলদস্যুরা হামলা চালিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় ট্রলারসহ ১৬ জেলেকে।

মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, সেলিম, সোহাগ, নাজিম, মনজু, মাকছুদ, শাহাদাত, আজগর, ইমান হোসেন, শাহেদ, জুয়েল, জামাল, শাহে আলম, জাকির, ছোট জাকির, নুর আলম, রাকিব। এদের মধ্যে নির্যাতনে ট্রলারে মাঝি সেলিম ও জেলে জাকির স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। অপর জেলেরা স্ষানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের সবার বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া হাসপাতালে ভর্তি সেলিম মাঝি ও জেলে জাকির হোসেন জানান, মঙ্গলবার ভোর রাতে মেঘনার মোক্তারদোন এলাকায় মাছ শিকারের গেলে জলদস্যুরা হামলা চালায়। পরে সবাইকে বেধড়ক মারধর করে চোখ বন্ধ করে ট্রলার সহ নিয়ে যায়। পরে দস্যুরা আমাদের মোবাইল ফোন দিয়ে ট্রলার মালিকের কাছে ফোন দেয় মুক্তিপণের জন্য আর না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়াও গত দুই দিন আমাদের দুইজনকে নির্যাতন করে। পরে বৃহস্পতিবার ভোরে মুক্তিপণের টাকা দেওয়া হলে দস্যুরা ট্রলার সহ ছেড়ে দেয়।

ট্রলার মালিক মতিন পাটোয়ারী বলেন, জেলেদের অপহরণের পর দস্যুরা অপহৃত সেলিম মাঝির মুঠোফোন দিয়ে ফোন করে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরে অর্ধলক্ষ টাকা রফাদফা হলে বিকাশে (০১৮৬১১১৬২০৯, ০১৩০০৪৮২৬০৭) টাকা পাঠালে অপহৃত ১৬ জেলেকে ছেড়ে দেয় দস্যু বাহিনী। দস্যুরা ট্রলারে থাকা জাল ও সোলার নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, অপহরণের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপর আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।