সর্বশেষঃ

চরফ্যাশনে তরকারির স্বাদ নিয়ে বিরোধ, বাবাকে মারধর

ভোলার চরফ্যাশনে রান্না করা তরকারির স্বাদ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের জেরে বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। পরে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁদের আপন চাচার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওলি চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন জাহাঙ্গীর চৌকিদার, তাঁর স্ত্রী রিনা বেগম ও ছেলে সজিব। তাঁরা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন একই এলাকার হাসান, জিহাদ, তাঁদের মা কোহিনূর বেগম ও বোন জান্নাতসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর চৌকিদারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে মিজান চৌকিদার ও তাঁর স্ত্রী কোহিনূর বেগমের মধ্যে রান্না করা তরকারির স্বাদ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের দুই ছেলে হাসান ও জিহাদ বাবার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তাঁরা বাবাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মিজান চৌকিদারকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার পর অপমানিত বোধ করে মিজান চৌকিদার বাড়ি ছেড়ে চিল্লার জামাতে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জাহাঙ্গীর চৌকিদার জানান, ঘটনার দিন ২৫ অক্টোবর তিনি স্থানীয় ফকির হাট বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে কয়েকজন তাঁকে মিজান চৌকিদারকে মারধরের বিষয়ে সামাজিকভাবে কোনো মীমাংসা হয়েছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত পরিবারের পুরোনো বিরোধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

জাহাঙ্গীরের দাবি, তাঁর এ বক্তব্যের কথা জানতে পেরে জিহাদ ক্ষুব্ধ হন। পরে তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর হাসান ও জিহাদসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ সময় জাহাঙ্গীর ঘর থেকে বের হয়ে এর কারণ জানতে চাইলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী রিনা বেগম ও ছেলে সজিব এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রিনা বেগম ও সজিবকে টেনেহিঁচড়ে অভিযুক্তদের ঘরে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।