চরফ্যাশনে স্বর্ণের দুল নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত, গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

ভোলার চরফ্যাশনে স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে আলমগীর বেপারীর স্ত্রী মাইনুর বেগম, মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাদের চিৎকার শুনে আলমগীরের আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্বজনদের দাবি, রাকিব, তাঁর মা পান্না ও হেলাল নাছিমার পেট ও পিঠে লাথি এবং কিল-ঘুষি মারেন। এতে নাছিমা গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নাছিমাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এবং দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আরও চারজন আহত হন। পরে আহতদের চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাছিমার স্বামী বাচ্চু বলেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। বর্তমানে নাছিমার অবস্থাও ভালো নয় বলে চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তিনি।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, মারধরের শিকার হয়ে নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর থ্রেটেন্ড অ্যাবরশন ধরা পড়ে এবং তাঁকে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন ধরা পড়ার পর ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডিএন্ডসি) করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ ওঠা রাকিব ও তাঁর বাবা আবদুল মাঝির বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগটি সংবেদনশীল। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
