আট বছর পর ভোলা পেল মন্ত্রী, পার্থকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

দীর্ঘ আট বছর পর ভোলা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রথম ভোলা সফর ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ফুল হাতে বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পৌঁছান আন্দালিব রহমান পার্থ। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ভোলা সফর।
খেয়াঘাটে তাঁকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতনসহ বিএনপি ও বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এ সময় ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।
পার্থের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। বিভিন্ন মোড়ে ফুল নিয়ে অবস্থান নেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন পর ভোলা থেকে মন্ত্রী হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নতুন দায়িত্বে আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলার যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের। বিশেষ করে জেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর উদ্যোগ চান তাঁরা।
আন্দালিব রহমান পার্থের বাবা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু ভোলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয়ভাবে ভোলার উন্নয়নে তাঁর অবদানের কারণে তিনি ‘ভোলার রূপকার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার সেই রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় পার্থও ভোলার মানুষের পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, খেয়াঘাট থেকে গাড়িযোগে আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা জেলা বিজেপির কার্যালয়ে যাবেন। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
পরে মন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা রয়েছে।
পার্থের এই সফর ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম ভোলা সফরে জেলার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কী বার্তা আসে, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।
