সর্বশেষঃ

মনপুরায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ভোলার মনপুরা উপজেলার ৩ নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতি। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অবস্থান করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাই দ্রুত ভবনটি পরিদর্শন করে সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা হান্নান বলেন, মাদ্রাসার ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভবনটির বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী আলিসা আক্তার জিনুক বলেন, আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করি। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। আমরা চাই দ্রুত আমাদের মাদ্রাসার ভবনটি সংস্কার করা হোক।

একই শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার রিংকু বলেন, ক্লাস করার সময় অনেক সময় মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, এই মুহূর্তে আমার কাছে কোনো বাজেট নেই। আপনারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

অন্যদিকে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসক স্যার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত পাঠদান করলেও ভবনের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত মাদ্রাসার ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশও গড়ে উঠবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।