সর্বশেষঃ

চরফ্যাশনে ধর্ষণের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরী মুকরী থেকে হাজারীগঞ্জ যাওয়ার পথে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পোস্টে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে বলা হয়, চর কুকরী মুকরী থেকে হাজারীগঞ্জে নানার বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই তরুণীকে নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন যুবক ধর্ষণ করেন। পোস্টটিতে চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজী ও সদস্যসচিব কাজী অনিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযুক্তদের দাবি, প্রচারিত অভিযোগের পক্ষে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁদের ভাষ্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ ফরাজী ও সদস্যসচিব কাজী অনিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। তাঁদের দাবি, এ ধরনের তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাঁরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে। কিন্তু প্রচারিত অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে যাঁকে ওই তরুণীর ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সিকদার ইউসুফ আবিদও অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পোস্টে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা পরিচয় ও ঘটনাস্থল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তাঁরা বলেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারি তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।