সর্বশেষঃ

ভোলায় গ্রেফতারকৃত প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ইউপি সদস্যের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে  হাসাননগর আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্হানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্যের মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন,  বিক্ষোভ  করেছে  বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্হানীয়রা।  বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা স্হানীয় সংসদ সদস্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায়  উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর সরকারী আদর্শ  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী,  অভিভাবক এবং স্হানীয়রা মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করে। এ সময় অভিভাবক ও স্হানীয়রা বলেন- বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক মো: মহিউদ্দিন এবং হাসাননগর ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্ বাচ্চু চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে।  আর পুলিশ তদন্ত ছাড়াই উক্ত প্রধান শিক্ষক সহ সাবেক  ইউপি সদস্যকে আটক করে। যা খুবই দূ:খজনক। উক্ত ঘটনায় বক্তাগন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান একই সাথে অবিলম্বে উক্ত প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ওর্যার্ডের সাবেক ইউপি সদস্যের মামলা প্রত্যাহার সহ মুক্তি দাবী করেন।
বিক্ষোভ শেষে কোমল মতি শিক্ষার্থী সহ   অভিবাবক ও স্হানীয়রা ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের উপজেলাস্হ বাসভবনে এসে বিক্ষোভ করে এবং সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করে। এ সময় সংসদ সদস্য আইনি প্রক্রিয়ায় আটকের মুক্তির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ  মাত্র একটি অভিযোগ আমলে নেওয়ায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্হানীয়রা।

উল্লেখ্য- গত ২২ জুলাই উক্ত বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সামিয়া বেগম এর দাদা রফিজল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ করেন। তাতে উল্ল্যেখ করেন গত ১৬ জুলাই বেলা ৩টায় প্রধান শিক্ষক স্কুল ছুটি দিয়ে বাদীর নাতনিকে তার রুমে নিয়ে মুখ চাপিয়া ইচ্ছার বিরুদ্ধে  জোরপূর্বক  ধর্ষন করে।  বিষয়টি স্হানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের  সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু চৌধুরী  বাদীকে থানায় আসতে বাধা প্রধান করে। ঘটনার ৬ দিন পর অনেক চেষ্টার পর বাদী থানায় এসে অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ অভিযুক্ত ২ জন কে আটক করে।

অপরদিকে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী- লাইজু বেগম ঐদিনই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি উল্লেখ করেন- গত ২০ জুলাই বেলা ১ টার সময় স্কুলে মিড ডে মিল বিতরনের সময় ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সামিয়া বেগম অতিরিক্ত ১ প্যাকেট দুধ নিলে প্রধান শিক্ষক তাকে একটি থাপ্পর দেয়। বিষয়টি সামিয়ার অভিভাবকরা জানতে পেরে ২২জুলাই বেলা ১১টার সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা করে তাকে মারধর করে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার  করে বোরহানউদ্দিন স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেয়। কিছুটা উন্নতি হলে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি তানায় অভিঢ়োগের পরামর্শ  দেন। সে মোতাবেক তিনি থানায় আসলে পুলিশ তাকে  আটক করে ধর্ষন মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।