সর্বশেষঃ

টানা বৃষ্টিতে মৎস্য খাতে সাড়ে ৫ কোটির বেশি টাকার ক্ষতির তথ্য, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব

আমজাদ হোসেন, প্রতিনিধি, ভোলার বানী

উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে ভোলার চরফ্যাশনে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্রের প্রস্তুতি, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আসন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সভায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক রাশেদা বেগম জানান, কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৫ সালে নজরুলনগর ও মুজিবনগর এলাকার ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং সংযোগ সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কক্সবাজার, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সংস্থাটির ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি রেডিও মেঘনার মাধ্যমে চরফ্যাশন উপজেলার কৃষি, মৎস্য ও সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে।

সভায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চরফ্যাশনে মৎস্য খাতে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একজন মাছচাষী একদিনেই প্রায় ১৭ লাখ টাকার মাছ হারিয়েছেন। তিনি নিষিদ্ধ রিংজাল ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় চৌকিদার ও দফাদারদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সিপিপি কর্মকর্তা মাহতাবুল বারী বলেন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। তিনি জানান, সরকার ভবিষ্যতে নতুন বিদ্যালয়গুলোকে ‘স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার’ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দুর্যোগ হঠাৎ সৃষ্টি হয় না; আগাম সতর্কতা ও সচেতনতা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, উপকূলীয় মানুষের মধ্যে দুর্যোগের সময় দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। অনেকেই সম্পদের চিন্তায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেরি করেন, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেন, শুধু ঘর উঁচু করলেই হবে না, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি না থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস, এনজিও এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দুর্যোগে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওয়ালীউল ইসলাম।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান, দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির, চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল গোলদারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।