মনপুরায় কৃষককে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগ
তজুমদ্দিনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি ॥
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ৮২ নং চাঁদপুর ইসলামীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারী অভিভাবককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, সহকারী শিক্ষকদের হয়রানি, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিভাবক ও শিক্ষকরা একাধিক অভিযোগ প্রদান করেন। তদন্ত শুরু করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস।
অভিযোগকারী এক নারী অভিভাবকের দাবি, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছন। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তাদের সঙ্গে অশালীন ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। তাদের ভাষ্য, পাঠদান চলাকালেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। কখনও স্কুল ফিডিং তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া, আবার কখনও বাজারে পাঠানোর মতো কাজেও শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সোলার সিস্টেম ও ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষক নিজ বাসায় নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন, যা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল।
সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে সরকারের দেওয়া কিছু সরঞ্জামও অনুপস্থিত। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে গেলে তিনি প্রথমে অপেক্ষা করতে বলে বাড়িতে চলে যান। পরে তার ছেলে নিয়ে এসে তথ্য সংগ্রহে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রিয়াজ আলম জানান, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষককে নোটিশ দেয়া হয়েছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসব বিষয়ে অবগত হয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
