সর্বশেষঃ

৪০ দিন ধরে আলোবিহীন তজুমদ্দিনের ২০টি পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডস্থ আড়ালিয়া গ্রামের পাটওয়ারী কান্দির অন্তত ২০টি পরিবার গত ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে সংযোগ পুনঃস্থাপন না হওয়ায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর ধরে নতুন শিকদার বাড়ি, তেলি বাড়িসহ আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার ওই রুটের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। গত ২৬ মে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে রাস্তার একটি গাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে লাইন ছিঁড়ে গেলে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলে একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন তার বসতবাড়ির ওপর দিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ লাইন টানতে বাধা প্রদান করেন। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ঘটনাস্থলের জমির মালিকের আপত্তি ও অশালীন আচরণের মুখে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে সংযোগ পুনঃস্থাপন না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যগণ জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে মানবিক দিক বিবেচনায় সংযোগ স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েও কোনো প্রকার সম্মতি না পাওয়ায় সমাধানের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর নির্দেশ প্রদানের পাশাপাশি নতুন সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি খুঁটির মধ্যে একটি খুঁটি নিম্নআয়ের গ্রাহকদের বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে মুঠোফোন এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব বনি আমিন।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিকল্প সংযোগ স্থাপনে খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাবদ প্রায় ৬৫ হাজার টাকা প্রয়োজন। একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও হতদরিদ্র অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব না হওয়ায় এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়সহ অসহায় এই জনগোষ্ঠীর বাসিন্দাগণ। এতে করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইলেকট্রনিক্স নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সুবিধা ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আধুনিক যুগে বসবাসরত জনগোষ্ঠী। এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় বিকল্প সংযোগ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়ে সরকারি বা সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে তজুমদ্দিন উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার হামিদুর রহমান বলেন, লাইনটি অনেক পুরোনো। নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ লাইনের নিচে কোনো বসতঘর নির্মাণের সুযোগ নেই। যদি কেউ সেখানে ঘর নির্মাণ করতে চান, তাহলে আগে সংযোগ স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত ব্যয় বহন করে সংযোগ সরিয়ে নেওয়ার পর নির্মাণকাজ করতে হবে। কিন্তু জয়নাল আবেদীন কোনো ধরনের আবেদন বা অনুমতি ছাড়াই সচল বিদ্যুৎ লাইনের নিচে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি তার ঘরের ওপর দিয়ে পুনরায় সংযোগ দিতে অসম্মতি জানান। তাই বিকল্প পথে নতুন খুঁটি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য নির্ধারিত অর্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিলে দ্রুত সংযোগটি চালু করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।