সর্বশেষঃ

ভোলায় পরীক্ষা কেন্দ্রে মব সৃষ্টি: জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সিসিটিভি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও মব সৃষ্টির ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করা বা নকলের উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ভোলার ঘটনায় যারা মব সৃষ্টি করেছে এবং নকলের চেষ্টা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষা শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ করছে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কেন্দ্র-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়ায় একদল পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালায়।

শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একদল শিক্ষার্থী কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা আরও লোকজনকে ডেকে জড়ো করে। বেলা দেড়টার দিকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের একটি দল কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতে ব্যর্থ হয়ে তারা পেছনের ফটক ভেঙে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে।

হামলাকারীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং একাধিক শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এ সময় অফিস কক্ষের দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ও বিভিন্ন আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা বাধা দেন। এতে তারা ব্যর্থ হয়।

ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।