সর্বশেষঃ

টানা বৃষ্টিতে মনপুরায় জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

আব্দুর রহমান সোয়েব, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি, বসতবাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ও ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, “তিন দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের চারপাশে পানি জমে গেছে, অনেক জায়গায় ঘরেও পানি ঢুকেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

আরেক বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেগম বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালে শুরু হওয়া উপকূলীয় টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ এখনও বিভিন্ন স্থানে চলমান। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করা এবং চলমান উন্নয়নকাজ পরিকল্পিতভাবে দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষা মৌসুমজুড়ে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।