মনপুরায় বসতঘরে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত-৩

মনপুরা প্রতিনিধি ॥
ভোলার মনপুরা উপজেলার চরকলাতলী ইউনিয়নে বসতঘরে ঢুকে হামলা, মারধর, এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাকিল মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, হাঁস চুরিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫নং চরকলাতলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে গত ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, আগের রাতে একটি হাঁস চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হলে উভয় পক্ষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। পরদিন সকালে শাকিলের স্বজন আব্দুর রহিম মাছ ধরতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত রাকিব ও সোহেল তাকে ধাওয়া করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাণ ভয়ে তিনি শাকিলের বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় শাকিলের স্ত্রী লিমা বেগমকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমাকেও মারধর করা হয়। এতে তিনি পেটে আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আহতদের মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া হামলার সময় শাকিলের ঘরে ব্যবসার কাজে রাখা ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার সময় শাকিল বাজারে নিজ কর্মস্থলে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাড়িতে এসে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাকিবের বাবা কালাম বেপারী বলেন, আমার বাসা থেকে আব্দুর রহিম পাঁচটি হাঁস চুরি করে। পরে আমি বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানালে সে হাঁসগুলো ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে আমি হাঁসগুলো নিয়ে দোকানের কাছে যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে শুনি, আমার ছেলে রাকিব ওই বাড়িতে গিয়ে মারামারি করেছে। তবে আমার ছেলে যা করেছে, তা অন্যায় করেছে। এ বিষয়ে চরকলাতলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। আমি উভয় পক্ষকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বলেছি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।