সর্বশেষঃ

ইজারাবিহীন বাজারে ফের ‘খাজনা’ আদায়ের অভিযোগ, ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সরকারি ইজারাবিহীন বাজারে প্রশাসনের পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমউদ্দিন বাজারটি এখনো সরকারি ইজারার আওতায় না থাকলেও সম্প্রতি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারটি দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ইজারার বাইরে থাকলেও সেখানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। গত বছরের ১৩ জুন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান। পরদিন তিনি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অবৈধ অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

মুজাহিদুর রহমানের অভিযোগ, ওই সময় অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। তিনি দাবি করেন, টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করে হামলায় নেতৃত্ব দেন।

ঘটনার পর বিষয়টি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুজ্জামানের নির্দেশে ১৫ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান বাজারটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের বক্তব্য নেওয়ার পর তিনি বাজারটি তখনও সরকারিভাবে ইজারাভুক্ত হয়নি বলে নিশ্চিত হন। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করা হলেও তারা উপস্থিত হননি।

এদিকে, হামলার ঘটনার পর বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানেশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার যৌথ বিবৃতিতে টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর দীর্ঘদিন অর্থ আদায় বন্ধ থাকলেও চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতা বাবুল ফরাজির নেতৃত্বে পুনরায় ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ৩০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুজাহিদুর রহমান। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও অভিযোগটি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জিত কুমার দাসকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই ওই বাজারে দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায় হয়ে আসছে। তখন কেউ আপত্তি করেননি। এছাড়া নতুন হাকিমউদ্দিন বাজারটি টবগী রাস্তার মাথা বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় অর্থ আদায়ের বিষয়টি নতুন নয় বলেও তারা দাবি করেন।

তবে বাজারটি সরকারি ইজারাভুক্ত কি না এবং ‘খাজনা’ আদায়ের বৈধতা রয়েছে কি না—সে বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে এবং সরকারি ইজারা ছাড়া কোনো বাজারে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।