১২ দফা দাবিতে ভোলায় ওজোপাডিকো শ্রমিকদের মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত ২৬০ বসতঘর, দুর্ভোগে দেড় হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের করতোয়া আবাসন এলাকায় রিং বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারের পানিতে নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে শত শত বসতঘর। পানির স্রোতে ভেসে গেছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি। প্রায় দেড় বছর ধরে এমন পরিস্থিতির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আবাসনের প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত করতোয়া আবাসন প্রকল্পটি প্রায় দুই যুগ আগে নির্মাণ করা হয়। তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদ জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় তখন প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি উঁচু রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাঁধটি সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে অতিরিক্ত জোয়ারের চাপে রিং বাঁধের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৭ থেকে ৮টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অতি জোয়ার এলেই পানি প্রবেশ করে আবাসনের ২৬০টি পরিবারের বসতঘরে।
বাসিন্দা আসমা আক্তার ও শাহানুর বেগম বলেন, জোয়ারের সময় ঘরে পানি ঢুকে পড়লে পরিবারের সদস্যদের খাটের ওপর আশ্রয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পানি নামতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে রান্নার চুলা নষ্ট হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়।
আরেক বাসিন্দা বিউটি বেগম ও জান্নাত বেগম জানান, জোয়ারের পানিতে তাদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে। এতে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল রাজ্জাক ও মো. শাহিন বলেন, করতোয়া আবাসনের প্রায় ২৬০টি পরিবারে দেড় হাজার মানুষের বসবাস। তাদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত রিং বেড়িবাঁধটি প্রায় দেড় বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আকাশে মেঘ দেখা দিলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং সিসি ব্লক দিয়ে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, রিং বাঁধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০ মিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে ২০০ মিটার এলাকায় ২ হাজার ৭৩৫টি জিও ব্যাগ ফেলা এবং মাটির কাজ করা হবে। খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে বাকি অংশের সংস্কারও করা হবে বলে জানান তিনি।
