ভোলার গরীবের ডুবাই বালু মাঠে ঘুরতে গিয়ে নদীর পাড় ধ/সে ২ বন্ধু নিখোঁজ।
মধ্যরাত : পর্ব-২২৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সে স্নেহ, সে ভালবাসা যে একদিন সুশান্তর বিয়োগে এতবড় অকার ধারণ করে নিয়তি আমার কাঁধে চাপিয়ে দেবে এত বড় কর্তব্যের বোঝা, এ আমি কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। কি এক মোহ, সংকোচ, দ্বিধা সশয় অহরহ আমাকে দংশন করছে সুশান্তর বন্ধু সুলভ অকৃত্তিম ভালবাসা। সুশান্ত যেন উমাকে আমার হাতে তুলে দিল, সেজন্য উমাকে আমি আজ মাথায় করে রাখার চেষ্টা করি। জানি না, কতটুকু সম্ভব মর্যাদা দিয়ে এই সন্তান হীনা বিধবাকে আমি রাখতে পারবো।
আমি মুখ নীচু করে খাচ্ছিলাম আর এসব অনেক অনেক কথা ভাবছিলাম। খেয়ে টিভির নিউজ শুনছিলাম তারপর ঘুমুতে গেলাম। ঘুমও আমার কোনদিনই হয়না হবুও ঘুমুতে যাই, বিছানায় শুই, কোল বালিশটা কোলে করে এপাশ, ওপাশ হই, মধ্য রাতের রাতজাগা পাখি যখন প্রহর ঘোষণা করে তখন আমার একটা তন্দ্রা লেগে আসে। তাও দেয়ালের বড় ঘরিড়টার যখন ড্রইং রুম থেকে এক, দুই, তিন, চারটার ঘণ্টা বাজে তখন সেই শব্দে আমার তন্দ্রা ছুটে যায়। তাড়াতাড়ি উঠে ড্রইং রুমে গিয়ে দাঁড়াই, জানালা দিয়ে নিস্তব্ধ রজনীর শেষ রাতের রূপ আমি দর্শণ করি। গাছগুলো আকাশের তারাগুলি, সমস্ত পৃথিবী, বিজন হীন হয়ে বিশ্ব প্রভুর আরাধনায় নিমগ্ন হয়ে থাকে সেরুপ যে কত শ্রেষ্ঠ, কত অপরূপ মাধুরী মিশিয়ে রূপ ছন্দার মুর্চ্ছনা জাগো, সেই অলৌকিক ব্যাপার যে বোঝে, সে বোঝে, আর যে উপলব্ধি করতে না পারে, তাকে বোঝানো দুঃসাধ্য।
ভোর হলো হাত মুখ ধুয়ে আমি নিজেই ওভেনে চায়ের পানি চাঁপলাম। ব্রেড টোষ্ট করলাম, ডিম হাফবল করলাম, ব্রেড এ মাখন লাগালাম, খেতে বসছি, দেখি উমা বেরিয়ে এল। ও এতক্সণ বোধহয় আরাধনায় বসেছিল ও আজকাল একটু জপতপ করে, সুশান্তর আত্মার উদ্দেশ্যে পুষ্পঞ্জলী দেয়। মনের আকুতি ভরা বেদনার বাণী। আমি ওকে ডাকা-ডাকি করিনা, যখন আপন মনে আছে, ¯েœহ সম্ভাষণ জানিয়ে গ্রহণ করি, ওর ভক্তি সুলভ আচরণ। বলল, দাদা আমাকে ডাকেন নি কেন ? কেন নিজেই সব করেছেন ? তবে আমি আছি কেন ? আমি বললাম, বোন আছে। ভাইয়ের কাছে থাকবে, কাজের জন্য নয়।
ওর মুখে একটা বিশ্বাসের আত্মভোলা ¯িœগ্ধ হাসির আভা ফুটে উঠল। সুশান্ত চলে যাওয়ার পর ওর মুখে বেদনার ছায়া ছাড়া আমি হাসির রেশ দেখিনি, আস্তে আস্তে শোকটা একটু কাটিয়ে উঠতে পারছে বলে মনে হয়, আমি বললাম, উমা আমি বেরিয়ে যাচ্ছি। তুমি দরজাটা বন্ধ করে দাও। ও বলল, কখন ফিরবেন দাদা। আমি লক্ষ্য করছি উমা দু-চার দিন হয় আমাকে প্রশান্ত দা, না বলে দাদাই বলছে। আমি বললাম, যতদুর সম্ভব তাড়াতাড়ি ফিরব। আমি ভার্সিটিতে চলে এলাম, কমন রুমে বসে থাকলাম। তখনও সকলে এসে পরেনি সকলের স্ত্রী-পুত্র আছে। নানা ঝামেলা আছে, আমার-ত হাত-পা খোলা, কেউ নেই কিছু নেই, কি ঝামেলা হবে।
অমিয়, বিজন, দেবতোষ এসে ঢুকেই ঘড়ি দেখে যার যার ক্লাশে গেল। আমিও আমার ক্লাশে গেলাম। অনেকক্ষণ ক্লাশ নিলাম, তারপর লাঞ্চ আওয়ারে কমনরুমে এসে বসলাম। বিজন বলল, কেমন আছেন প্রশান্ত দা। বললাম, একরকম। অমিয় বলল, আপনার বন্ধুপত্নী কি এখানেই থেকে গেলেন ? আমি বললাম, তাইত দেখা যাচ্ছে। দেবতোষ বলল, কেউকি নিতে আসেনি ? বললাম, ওর ছোট ভাই কলকাতা থেকে এসেছিল, যায়নি। বলল পরে যাবে। দেবরের ছেলে এসেছিল লন্ডন থেকে পাবনায় যাবার জন্য বলল, উমা কিছুতেই যেতে চায় না। আপনি কি বললেন ? আমি বললাম, আমি কি বলব, একজন অসহায় বিধবা ভদ্র মহিলা আমার বাড়ীতে একটু আশ্রয় চায়। তাকে-ত আমি জোর করে তাড়িয়ে দিতে পারি না ? যদি সে নিজের ইচ্ছায় না যায়। বিজন বলল, লোকে কি বলবে, বিশেষত্ব, আপনি বিয়ে শাদী করেনি-ত।
(চলবে——)।
