ভোলার গরীবের ডুবাই বালু মাঠে ঘুরতে গিয়ে নদীর পাড় ধ/সে ২ বন্ধু নিখোঁজ।
মধ্যরাত : পর্ব-২২০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : উমা যেমনি আপন মনে এসেছিল, আবার আপন মনে চলে গেল। ও এমনি করে যখন ইচ্ছে হয় হঠাৎ ড্রইং রুমে লোকজনের মধ্যে ঢুকে পরে কতক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কাকে কোন প্রশ্ন করে না। বা নিজেও কিছু প্রকাশ করে না। সুশান্ত চলে যাওয়ার পর এমনি স্বভাব দেখা দিয়েছে। আমি না দোলা ওকে কিছু বলি না। সুশান্তর ছোট ভাই পাবনা থেকে লিখেছে। সুশান্ত কি টাকা-পয়সা জমা রেখে গেছে, তার হিসেব চেয়েছে। তা আমি বলে দিয়েছি যা আছে, উমার বৈধব্য জীবনটা কোন রকমে চলে যাবে। আর যা আছে উমার একাউন্টে রেখে গেছে। ওটা তোলা আমার বা আপনাদের কারও অধিকার নেই। তাতে ওর ভাই সুকান্ত মোটেই খুশী হয়নি। ওদের সকলের ধারণা, সুশান্ত নিঃসন্তান; অনেক অনেক টাকা, কাড়ি কাড়ি জমা রেখে গেছে। সাধারণ নিঃসন্তান হলে যে মারা গেল, তার টাকা-পয়সার মালিক ভাই বা তার ছেলে-মেয়েরা হয়। জানিনা সুশান্ত কি নিজে জানত নাকি সে মরে যাবে। তাই যা ছিল বা যা রেখে গেছে তা উমার একাউন্টে রেখে গেছে। উমা নিঃসন্তান ছিল বলে বা এত বছর তার সংসারে তার সেবা শু¯্রূসা করেছে বলে বোধ হয় তার একটা করুণা ছিল। যাক, ওসব নিয়ে আমার এত মাথা ঘামাবার কোন প্রয়োজন নেই। উমার পক্ষে আইন-ই তার সাক্ষ্য দেবে।
হেমন্ত কতক্ষণ বসে থেকে চলে গেল। ওর নিজের দুঃখের কথা বলে, নিজেই মন মরা হয়ে চলে যায়। পৃথিবীতে কেউই সুখী নয়, সকলের অভাব অভিযোগ, ব্যাথা, বেদনা, বিরহ লেগেই আছে। আমরা তার ব্যতিক্রম নেই। দোলার শরীরটা তত ভাল যাচ্ছে না। উপরে বেশ স্বাস্থ্য শরীর মোটা-সোটা, নাদুস-নুদুস। কিন্তু দিন দিন কেমন যেন নেতিয়ে পরেছে। খাওয়া-দাওয়ায় অরুচি, উমাকে যে বলব ওকে দেখা শুনা করতে তা ওর মানসিক অবস্থা; কচও আমার কাছে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত। কিন্তু আমি যে কি করব, তা ভেবে হদিস পাচ্ছি না। তবু দোলার জন্য হরলিকস এনে দিলাম, এক কৌটা ওভালটিন এনে রাখলাম। বললাম, দোলা মাঝে মধ্যে খেয়ে নিস। দোলা বলল, দাদু ওসব ছাই-ছাতু আমার খেতে ইচ্ছে করে না। তুমি টাকা-পয়সা নষ্ট করো না।
সেদিন কচ ফোন করল লসএঞ্জেল থেকে, দোলাকে নিতে আসবে। কচ বলল, দাদু আশা করি আপনাদের মনের অবস্থা অনেকটা ভাল হয়েছে। মনে মনে হাসলাম। মন আমার কোন দিনই ছিল, তার আবার অবস্থা। এখন দোলা কচের সহধর্মিনী, ওকে ধরে রাখার আমার কোন অধিকার নেই। আমি যেই একা, সেই একা থেকে গেলাম। কথায় আছে না, অভাগা যে দিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়। আজ বিকেলের দিকে রিসলু শ্যামবেলি বেড়াতে গেলাম। নাঃ আর এই বাড়ীতে বসে এখনভাবে হতাশায় ভেঙ্গে পরলে চলবে না। আমাকে মনে মনে শক্তি সঞ্চয় করে মানুষের মত বাঁচতে হবে। রিসলু লেকের পাড়ে বসে বসে কত কথা, কত স্মৃতি আমার বার বার অতীতের কথা মনে করিয়ে দিল। সুশান্তকে নিয়ে উমা সাথে ছিল, আর ছিল ডোরা। আর আজ আমি একা। বড় কষ্ট হয়, মানুষ চলে যায়। পাছে শুধু রেখে যায় মর্ষ্মভেদী স্মৃতি। অনেকক্ষণ বসে থেকে লেকের পাড়ে আজ আমার স্মৃতির দুয়ার একে একে খুলে গিয়ে, মান-মন্দিরের বেদীর দুয়ারে করাঘাত করছে।
বাসায় ফিরে এলাম। দেখি উমা জানালার কাঁচের কাছে দাঁড়িয়ে অনিমেষ নয়নে দূরে, অনেক দূরের পানে চেয়ে আছে। দোলা তার ঘরে বালিশ মাথার নীচে দিয়ে শুয়ে আছে। আমি ডাকলাম, দোলা- ও চমকে উঠল কি দাদু। বললাম, এদিকে আয় কেমন চুপচাপ বাড়ীটা, একটু কথা-বার্তা বল, একটু গল্প কর। সেই যেমন বিয়ের আগের করেছিস। ছেলে মানুষের মত আবোল-তাবোল অনেক কথা, তেমনি কথা বল। দোলা হাসল। বললাম, হাসছিস যে। বলল, দাদু আগের মত কথা বলতে সংকোচ হয় কেন ? কোন সংকোচ হয়। বললাম, সেই দিন গুলি ভালছিল রে। যে দিন যায় সে আর ফিরে আসে না। (চলবে——)
