ভাঙনে বিলীন বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, ১০ গ্রামে আতঙ্ক
দৌলতখানে রুদ্র মেঘনা

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভোলার দৌলতখানে রুদ্ররূপ ধারণ করেছে মেঘনা। ইতোমধ্যে এ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ। ফসলি জমি, বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার। ভাঙনকবলিত এসব পরিবারের মানুষ ভিটামাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া নদীগর্ভে চলে গেছে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ণকেন্দ্র ও রাস্তাঘাট। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন দৌলতখানের আরও অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ।
গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে মেঘনায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। শেষ আশ্রয়টুকু হারাতে বসা এলাকাবাসীর দাবি- ‘ত্রাণ নয়, আমাদেরকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার ভাঙনে দৌলতখান উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন হাজিপুর, সৈয়দপুর, মদনপুর ও মেদুয়া গ্রামের মানুষ। প্রতিনিয়ত ভয় ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এসব এলাকায় সরজমিনে দেখা যায়, মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেঘনার তীরে বসবাস করছেন। ভবানীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিজিয়া বেগম জানান, নদীর ভাঙনে বসতভিটা বিলীন হয়েছে। এর পর নিচু জমিতেই কোনোমতে ঘরটি রেখেছেন। নদীর পানি বেড়ে গেলে তার ঘরটি প্লাবিত হয়ে যায়। পানির কারণে রান্না করার মতো বিকল্প কোনো ব্যবস্থা থাকে না। অনেক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়লে না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। বর্তমানে আর্থিক সংকটের কারণে এবং বিকল্প জমি না থাকায় ঘরটিও সরাতে পারছেন না তিনি। রিজিয়ার মতো এ উপজেলায় নদীর তীরে এমন বহু পরিবার আছে যারা
ভিটামাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নান্নু মাস্টার জানান, মদনপুর চরের অনেক পরিবার মেঘনার ভাঙনের কারণে তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা। থামছেই না নদীভাঙন, এতে বাড়ছে মানুষের কান্না। নতুন করে পানি বৃদ্ধিতে বাড়িঘরের পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশ্বাস এর পরও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ নদীর পাড়ের মানুষ।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়নের বোর্ডের (পাউবো) ভোলা নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান মাহমুদ জানান, ‘নদীতে নতুন করে পানি বাড়ার ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে দৌলতখানে ইতোমধ্যে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে ৫২২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতেই কাজ শুরু হবে।’
