যুগল সাফল্যে বোরহানউদ্দিনে উপসচিব হলেন পীযূষ চন্দ্র দে ও শুভ্রা দাস
মহিলা মুক্তিযোদ্ধা প্রধান সেনাপতি ড. তাইবুন নাহার রশীদ কবিরত্ন’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

মহিলা মুক্তিযোদ্ধা প্রধান সেনাপতি, দেশ সেরা লেখক ড. তাইবুন নাহার রশীদ কবিরত্ন’র ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শহরের মরহুমার শ্বশুরালয়ের মসজিদ, মাদ্রাসা, খলিফাপট্টি ফেরদাউস জামে মসজিদ, উকিলপাড়া জামে মসজিদে এক যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে মোসলেহ উদ্দিন কুট্টি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, দৈনিক ভোলার বাণীর সম্পাদক মুহা: মাকসুদুর রহমান, মরহুমের ভাইপো আমিনুল ইসলাম মঞ্জু খান, আলহাজ্ব ছগীর ফরাজি, মুফতি মাহাবুবুর রহমান তামিম, হাফেজ রাশেদুল ইসলামসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ছাত্রসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। দোয়া মোনাজত পরিচালনা করেন রতনপুর রশিদিয়া ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম আব্দুল মান্নান। উল্লেখ্য, ড. তাইবুন নাহার রশীদ ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ইন্তেকাল করেন।

তাইবুন নাহার রশীদ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী ঃ কবিরত্ম তাইবুন নাহার ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভোলার প্রতিষ্ঠিত আইনজ্ঞ, ব্যক্তিত্ত্ব সম্পন্ন জমিদার এবং প্রাক্তন এমএলএ খান বাহাদুর নুরুজ্জামান (এমবিই) মেম্বার অফ দি অর্ডার অফ দি ব্রিটিশ এমপায়্যার) এর কন্য এবং ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুর রশীদ এমএ-র স্ত্রী। মিসে রশিদ ১৯৪৮ সালে পি.ডব্লিউ.এন.জি পাকিস্তান মহিলা জাতীয় রক্ষি বাহিনীর কমান্ডার ও ক্যাপ্টেন পদে নিযুক্ত হন। খুলনা, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়ায় স্কুল-কলেজের মেয়েদের রাইফের ট্রেনিং, ফাস্টএইড ও নার্সিং ট্রেনিং দেন। তিনি যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া ও বরিশাল এই চার জেলার কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন। পরে তিনি নিখিল পাকিস্তান (আপোয়া) মহিলা সমিতির বিভিন্ন শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মসচিব ছিলেন। ১৯৪৭ সালে জলপাইগুড়িতে মুসলিম মহিলা সমিতি ও ১৯৪২ সালে বাগেরহাট খুলনায় ডব্লিউ. ভি.এস.-র প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মসচিব ছিলেন।
খুলনা কর্ণেশন বালিকা বিদ্যালয় এর ডোনার, পাইওনিয়ার গার্লস স্কুলের সেক্রেটারী ও খুলনা জেলের অবৈতনিক জেল ভিজিটর ছিলেন। ১৯৫৪ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের খুলনা শাখার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার ছিলেন। ১৯৫০ সালে গৌরবঙ্গ সাহিত্য পরিষদ তাকে কবিরতœ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষা কবিতা লিখে সরকারের রোষে পড়েন। তিনি বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ তাকে শ্রেষ্ঠ কবিতা লেখার জন্য সাহিত্য পদক দেন। তিনি লেখিকা সংঘের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১০ বছর বয়স থেকৈ ‘প্রতিদান’ নামে ছোট গল্পের বই লিখে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মহিলা মাহে নও, সওগাত ও দিলরুবায় তার লেখা সমাদৃত হয়ে ছাপা হয়েছে।

১৯৬০ সালে বহু সাময়িকী, লোক সাহিত্য তার পরিচালনায় প্রকাশিত হয়। তার লেখা ‘একটু কিছু বলো’ কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। আমি যদি মেঘ হতাম’ ছোট গল্পের ব্ই ‘মহানায়ক’,‘জীবন ক্ষুধা’, ‘বিস্মৃতি’, ‘পাষাণের কান্না’, ‘সন্ধ্যা মালতি’ প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তিনি ঢাকা লায়নেস ক্লাবের ডিরেক্টর, ক্যান্টনমেন্ট লায়নেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও দুই বৎসর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
মিসেস টি,এন, রশিদ বাংলাদেশ মহিলা সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্যা। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি তাকে শ্রেষ্ঠ সমাজসেবী হিসেবে পুরস্কার ও মেডেল প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি ডি ও এইচ লেডিস ক্লাব এর প্রেসিডেন্ট এবং ডিষ্ট্রক্ট লায়নেস কেবিনেটর এরিয়া চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়ও তিনি আরো বহু সমাজ সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। মিসেস টি,এন, রশিদ বহু নাট্যমঞ্চে অভিনয় করে সুনাম অর্জন করেছেন। সিরাজ-উদ-দ্দৌলায় সিরাজের অভিনয় করে এবং শাহজাহানের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়ে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এসব টাকা পয়সা তিনি স্কুলে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে দান করে দিয়েছেন। তিনি ১৯৪২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সমাজ সেবার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করে ছিলেন। বিশ্রাম কি জিনিষ তা তিনি ভুলে যান। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে সমাজসেবার কাজে উৎসর্গীকৃত রেখে ছিলেন এবং জীবনের অন্তিম সময়টুকু লেখা-লেখির মধ্যেই কাটিয়েছিলেন।
