লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-১৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) ছিলেন বাবা আমাদের সুখ-দুঃখের, ব্যাথা, বেদনার অংশীদার হয়ে আমাদের বন্ধুর মত। বাবাকে আরো নিবিড় করে কাছে পেয়ে মাকে হাড়ানোর ব্যথা কিছুটা উপশম হয়ে এসেছিল। তবুও মার স্মৃতি মনে করে ব্যাকুল হয়ে উঠতাম।
বাবা মাকে খুব ভাল বাসতেন। মার সুখের জন্য বাবা কি না করেছেন। বাবা জানতেন এ দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মাকে ধরে রাখা যাবে না। তবুও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েও মাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। আমাদের বুকে নিয়েই মাকে হারানোর ব্যাথা ভুলে যেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। মার দাবী দামী শাড়ী গহনাগুলো বাবা মাঝে মাধ্যে নেড়ে চেড়ে দেখে চমকে যেতেন। কত স্মৃতি কত বিস্মৃতি মাকে জড়ানো, কত ভালোবাসা অনাদি অনন্ত কালের অহরহ বাবাকে ধ্বংস করত। বাবা সে আগুনে অনেক জ্বলে পুড়ে খাসি সোনা হয়ে উঠেছিলেন।
বাবা যেন মাকে হারিয়ে শুকিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার গায়ের রং কেমন যেন ম্লান হয়ে আসছিল। খাওয়া দাওয়া কমে আসছিল। অথচ বাবার কোন রোগ ছিল না। আমরা মাকে হারিয়ে বাবাকে আকড়িয়ে ধরে বাচতে চেয়েছিলাম। বাবার ভালবাসা, বাবার স্নেহ, বাবার মায়া-মমতা, আমরা ভুলতে পারব না। ঢাকা থেকে যাওয়ার কথা শুনে বাবা ফোন করে জানতে চাইতেন, আমরা তখন কি খেতে ভালবাসি। কি পছন্দ করি, কি কিনে রাখবেন, বাবার অপরিসীম স্নেহ সব সময়ে আমাদের ঘিরে থাকত।
বাবাকে সব সময় ফোন করে খোজ নিতাম, বাবা কেমন আছেন, কি খাচ্ছেন, কি খেতে ইচ্ছা করে। ছোট ভাই সুমন রাঙ্গামাটি থেকে বাবার খোজ নিত। চমন চায়না থেকে বাবাকে টিঠি দিত ও ফোন করত। কিন্তু বাবা দিন দিন কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে চলছিল। যেন মা’র অশরীরী আত্মা বাবার কাছে ঘুরছিল।
বাবা যেন কি মোহের ঘোরে মাঝে মধ্যে দিওয়ানা হয়ে যেত। বাবা আমাদের পরের সংসারে পাঠিয়েছেন। শ্বশুর, ভাসুর, দেবর, ননদ নিয়ে আমার সংসার তবুও বাবা অহরহ আমার হৃদয় কন্দরের নিভৃত মন্দিরে ধ্বনিত হতো। রাতে ঘুমাতে গিয়ে বাবার কথা ভেবে ভেবে ঘুমাতে যাই।
সেদিন কি বার, কি মাস ছিল আজ আমার সে কথা একদম মনে নেই। বাবা খুলনা থেকে প্লেনে এসে আমার বাসায় উঠলেন। বাবাকে দেখে মনে খুব খুশী লাগল। যেন কত ভাল লাগল। আজ সে অনুভূতির কথা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। বাবাকে টুকিটাকি অনেক কথা জিজ্ঞাসা করলাম। বাবা সব কথা অনর্গল বলে গেল। বাবা কি এসেছেন জানতে চাইলাম। বললেন, পেনশনের টাকা তুলতে এসেছেন।
বাবাকে কাছে বসে প্লেটে অনেক খাবার তুলে দিলাম। বাবা কিছুই খেলেন না। খাবার কোন অভিরুচি বাবার নেই। বাবা অনেক শুকিয়ে গেছেন। মনে হয় ডায়াবেটিসটা খুব বেড়েছে। বাবা স্যুট পড়ে বেরিয়ে যেতে চাইলেন। বাহিরে ব্যাংক থেকে টাকা তুললেন। বাড়ীর জন্য টুকিটাকি কেনাকাটা করবেন।
(চলবে———–)
