মনপুরায় রিজিকের সন্ধানে গভীর সাগরে, স্বজনদের শেষবার না দেখেই প্রাণ গেল বাবুল মাঝীর

জীবিকার তাগিদে হালাল রিজিকের সন্ধানে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মারা গেছেন ভোলার মনপুরার জেলে মো. বাবুল মাঝী। স্বজনদের শেষবারের মতো দেখা কিংবা কথা বলার সুযোগ না পেয়েই সাগরের বুকেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মো. বাবুল মাঝী ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয় জেলেদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তিনি সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার পর আনুমানিক রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।
গভীর সাগরে অবস্থান করায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার কোনো সুযোগ ছিল না। চারপাশে শুধু উত্তাল পানি আর ঢেউ। এমনকি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যেই ট্রলারের ইঞ্জিনও বন্ধ হয়ে যায়। একের পর এক প্রতিকূলতার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবুল মাঝী।
সহকর্মী জেলেদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একপর্যায়ে তাঁর হৃদ্ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং সাগরের বুকেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়, জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রিয় সন্তান ও স্বজনদের কাউকেই কাছে পাননি বাবুল মাঝী। শেষবার তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও হয়নি তাঁর। জীবিকার তাগিদে যে সাগরে পাড়ি দিয়েছিলেন, সেই গভীর সাগরেই নিঃসঙ্গভাবে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে তাঁকে।
উপকূলীয় এলাকার জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া, চিকিৎসাসেবার অনুপস্থিতি এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অসুস্থ জেলেদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।
মরহুম মো. বাবুল মাঝীর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মী জেলেদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
