২৫ বছরের কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য, পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
ভোলায় এইচএসসিতে পাসের হার ৩৯.৫৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ বেড়ে ৭৯

মো. সামিরুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ।।
ভোলায় এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৬০ দশমিক ৪৬ শতাংশই পাস করতে পারেননি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, জেলায় এ বছর পাসের হার ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তবে সামগ্রিক ফলাফলের হতাশার মধ্যেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ভোলায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার ৫৯টি কলেজ থেকে এবার মোট ৯ হাজার ৯৯৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৫৩৯ জন। পাস করেছেন ৩ হাজার ৭৭২ জন। ফলে জেলায় মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ হাজার ৭৬৭ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে ভোলার অবস্থান পঞ্চম। জেলার ওপরে রয়েছে পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালী। সবচেয়ে কম পাসের হার জেলায় নয়, বরং ভোলার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঝালকাঠি, যেখানে পাসের হার ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
ভোলার ফলাফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক জিপিএ-৫। এ বছর জেলার ৭৯ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ছাত্র এবং ৬০ জন ছাত্রী। অর্থাৎ জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোলায় বিজ্ঞান ও মানবিকসহ বিভিন্ন বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী থাকলেও সামগ্রিক পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে একদিকে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সাফল্য যেমন আলোচনায় এসেছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও ভোলায় ব্যতিক্রমী কিছু চিত্র রয়েছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ‘জিরো পার্সেন্টেজ পাস’ তালিকায় জেলার তিনটি কলেজের নাম রয়েছে। এর মধ্যে চরফ্যাশনের চরম্যানিকা জালাল আহমেদ কলেজ থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেননি। লালমোহনের রামাগঞ্জ সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একইভাবে ভোলা সদরের মেদুয়া কলেজের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেননি।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় সামগ্রিক জেলার ফলাফলের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলকে সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত। বরং প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ধরন বিশ্লেষণ করলেই ফলাফলের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ভোলার এবারের এইচএসসি ফলাফলে তাই একই সঙ্গে সাফল্য ও উদ্বেগের দুটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৭৯ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন যেমন ইতিবাচক দিক, তেমনি ৫ হাজার ৭৬৭ জনের অকৃতকার্য হওয়া জেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
মো. সামিরুজ্জামান,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ভোলা
