২৫ বছরের কলেজে এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য, পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
মনপুরার পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানে ৩৮৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১৩৩, ফেল ২৫০ জন

আব্দুর রহমান সোয়েব ,মনপুরা প্রতিনিধি।। ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ৩৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২৫০ জন। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত পাসের হার ৩৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে এবার ১৫৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩০ জন। ফেল করেছেন ১২৮ জন। কলেজটির পাসের হার ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ থেকে ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৭ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, সাকুচিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ১৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ জন। ফেল করেছেন ১০১ জন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ২৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
মাদ্রাসা পর্যায়ে হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৭ জন। ফেল করেছেন সাতজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, মনপুরা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শতভাগ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মনপুরা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, মনপুরা সরকারি কলেজে পাসের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
সব মিলিয়ে মনপুরার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফলে উত্তীর্ণের তুলনায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। দ্বীপ উপজেলা মনপুরার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এ ফলাফল নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
