ভোলার চর মোজাম্মেলে জোয়ারের চাপে ভাঙল রাস্তা, দুর্ভোগে শত শত মানুষ
ভোলার চর মোজাম্মেলে জোয়ারের চাপে ভাঙল রাস্তা, দুর্ভোগে শত শত মানুষ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চর মোজাম্মেলের মহাজনকান্দি এলাকায় প্রবল জোয়ারের পানির চাপে বিলের মধ্য দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক শ মানুষ। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুদের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাজনকান্দি এলাকার এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু জোয়ারের পানির প্রবল চাপে রাস্তার কয়েকটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতসহ নানা ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা
রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে তাদের। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোগে সাতটি সাঁকো, তবুও কমেনি ঝুঁকি
ভাঙা রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সাতটি সাঁকো নির্মাণ করেছেন। তবে এসব সাঁকো দিয়ে নিরাপদে চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিশু, শিক্ষার্থী, নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা ও জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
এলাকাবাসীর দাবি, মহাজনকান্দির মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভাঙা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে। শুধু অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ নয়, বরং রাস্তাটি স্থায়ীভাবে মেরামত ও টেকসই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রাস্তাটি সংস্কার করা হলে মহাজনকান্দি এলাকার কয়েক শ মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
