ভোলার চর মোজাম্মেলে জোয়ারের চাপে ভাঙল রাস্তা, দুর্ভোগে শত শত মানুষ
ভোলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ২১৫ জন আটক, ৭৭ জনের কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ॥মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন করতে ভোলায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান’-এ জেলাজুড়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ, জেলেদের আটক, জরিমানা আদায় এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের উপজেলা ভিত্তিক চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে মোট ২১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০০ জনের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানে প্রায় ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। এ সময় ৩ লাখ ১শত ৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়। যা অসহায়, গরীব এবং মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ২০০ ক্যান বরফ বিনষ্ট করা হয়। জব্দ করা ট্রলার ও নৌকা নিলাম থেকেও অর্থ আদায় করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার অভিযোগে জেলেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আইন অমান্যকারীদের জরিমানা ও কারাদণ্ডের পাশাপাশি জব্দ করা অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ শিকারের সময় ট্রলার ও নৌকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি ট্রলার ও ৩৮টি নৌকা নিলামে ২ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে। নিলাম ও জরিমানা থেকে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা হয়েছে। মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা, অবৈধ জাল ব্যবহার রোধ এবং জেলেদের সচেতন করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
