ভোলার চর মোজাম্মেলে জোয়ারের চাপে ভাঙল রাস্তা, দুর্ভোগে শত শত মানুষ
ভোলায় ৩ দিনব্যাপী কবি গানের আসর শুরু

স্টাফ রিপোর্ট ॥ ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা রতন মাহাজন বাড়ির আঙিনায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ২৫৯ তম ৩ দিনব্যাপী কবি গানের আসর। বৃহস্পিবার সকালে পাল্টাপাল্টি যুক্তি, তর্ক আর গানে-গানে দুই কবিয়ালের লড়াইয়ে মধ্যে দিয়ে কবিগান শুরু হয়। গানের আসর হারমনিয়াম, গানের আসর হারমনিয়াম, ঢোল, বাঁশি, কাশা ও বেহালাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত-শত দর্শক শ্রোতা এ গান উপভোগ করেন। রতন মাহাজন বাড়ির লেকজন মহাজনের বাড়ির উঠোনে ৩ দিনব্যাপী এ গানের আসরে আয়োজন করেন। শেষ হবে আগামী শনিবার। এবারের আসরে পালা গান পরিবেশন করছেন পিরোজপুর নাজিরপুর এর কবিয়াল রতন সরকার ও গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া গ্রামের নরত্তম সরকার।
জানা গেছে, এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কবি, জারি, সারি আর পালাগানের মাঝে বাঙালি তার প্রাণের আনন্দ খুঁজে পেত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্তির পথে এ সব জনপ্রিয় গান। তাই বাঙালীর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ভোলায় আজও আয়োজন করা হচ্ছে কবিগানের আসর। আর এমন লোকজ উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধসহ প্রায় হাজারেরও অধিক দর্শক-শ্রোতা। যা শেষ হবে আগামী শনিবার। ওই দিন লোকসমাগম আরো বাড়বে বলে আয়োজকরা জানান।
এ গানের আসরকে কেন্দ্র করে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি, বসে গ্রামীণ মেলা। আড়াইশ’ বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষীপূজার পর স্থানীয় গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে এ কবি গানের আয়োজন করেন। তাদের আয়োজন করা কবি গানের মাধ্যমে বাঙালির লোক সাংস্কৃতি বিকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক কপিল দে।
কবি গান বাংলা লোক সংগীতে বিশেষ একধারা। যেখানে মুখে মুখে পদ রচনা করে তাৎক্ষণিক সুর রচনা করে প্রতিযোগিতা হয়। আর কবি গান পরিবেশন কারিদের বলাহয় কবিয়াল। একটা সময় গ্রাম বাংলায় নিয়মিত বসতো কবি গানের আসর। কিন্তু কালের বির্বতনে এখন বিরল। তবে ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ বাপ্তা রতন মাহাজন বাড়ির আঙিনায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ২৫৯ তম তিন দিনব্যাপী কবি গানের আসর সেই পুরানো ঐতিহ্যকে লালন করে আসছে। কবি গানের পাশাপাশি থাকে ছোট পরিসরে মেলাসহ নানা আয়োজন।
বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা এবছর কবি গানের আসর শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। কবি গানকে গিরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে উৎসবের আমেজ।
মাহাজন বাড়ির কবি গানের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম অপু জানান, প্রতি বছর মাহাজন বাড়ির কবি গানের আসরে আমাদের বাড়ির যত আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই কবি গানের আসরে ছুটে আসেন। এমনকি আমাদের আশে পাশের হিন্দু-মুসলিম সবাই শুনেতে আসেন কবি গান। এটা যেমন মাহাজন বাড়ির ঐতিহ্য; তেমনি করে গ্রামীণ সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহক। আমরা আশাকরি সরকার গ্রামীণ এই সাংস্কৃতিক ধরে রাখার জন্য এগিয়ে আসবেন।
