সর্বশেষঃ

ভোলায় আমন ক্ষেতে পানির হাহাকার, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

মোঃ সামিরুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার || টানা দুই সপ্তাহ বৃষ্টির দেখা নেই। শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের জমি, কোথাও মাটিতে ধরেছে ফাটল। পানির অভাবে ধানের চারা লালচে হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কোথাও দেখা দিয়েছে পোকামাকড়ের আক্রমণও। এতে সম্ভাব্য ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিন কাটছে ভোলার আমনচাষিদের।
উপকূলীয় জেলা ভোলায় আমন চাষের বড় একটি অংশ বৃষ্টির পানিনির্ভর। কিন্তু দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেউ কেউ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
সরেজমিনে দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ও জয়নগর এবং ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ও ভেদুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমির মাটি শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটল ধরেছে। প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে ধানের চারা হারাচ্ছে স্বাভাবিক সতেজতা। এতে ব্যাহত হচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি।
কৃষকদের ভাষ্য, আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে শুরুতে তেমন দুশ্চিন্তা ছিল না। তবে গত দুই সপ্তাহের অনাবৃষ্টিতে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিচ্ছিন্নভাবে সামান্য গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও তা জমির পানির চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
দৌলতখানের জয়নগর এলাকার কৃষক কবির ফরাজী বলেন, ‘আকাশে মেঘ জমলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। জমি শুকিয়ে ফাটল ধরেছে। এভাবে আরও কয়েক দিন গেলে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।’
চরখলিফার কৃষক জালাল আহমেদ বলেন, ধানের চারা বাঁচাতে সেচযন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। কিন্তু তীব্র রোদে চারাগুলো আবার লালচে হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে কয়েক দিন পর আবার সেচ দিতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে।
চরসামাইয়ার কৃষক রুহুল আমিনের আশঙ্কা, পানির সংকটে ধানের ক্ষেতে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। দ্রুত বৃষ্টি না হলে বাড়তি টাকা খরচ করে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছে না কৃষি বিভাগ। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ভোলা সদরে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। সামনে বৃষ্টি হলে জমির পানির সংকট অনেকটাই কেটে যেতে পারে। তিনি কৃষকদের নিয়মিত মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কৃষকদের এখন অপেক্ষা বৃষ্টির। সময়মতো পানি না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেচ ও বালাইনাশকে বাড়তি খরচ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে আমন ধানের উৎপাদন ও কৃষকের লাভের হিসাবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।