দুই যুগের অবহেলিত পুকুর পরিষ্কারে নিজেই নামলেন বরিশালের ইউএনও

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অবহেলা আর অপরিচ্ছন্নতায় পড়ে থাকা বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনসংলগ্ন পুকুরটির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুকুরটি পরিষ্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জলাশয় পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানাকে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানার উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সহযোগিতায় পুকুরটির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। এ সময় ইউএনও ফরিদা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় পুকুরটিতে ময়লা-আবর্জনা জমে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে থাকা জলাশয়টির এমন অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হওয়ায় উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, সরকারি স্থাপনার সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি।
মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ পুকুর পরিষ্কার
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনাসহ বিভিন্ন স্থানে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্ন পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়, বরং মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস ও পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা তৈরি করা। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনা থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলসহ সর্বত্র পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে এর উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে পুকুরটির সৌন্দর্যবর্ধনে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পুকুরটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পুকুরটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এর আশপাশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রশংসায় ইউএনওর উদ্যোগ
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি জলাশয় পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানার এ কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলার পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণে এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা নয়, পরবর্তী সময়ে পুকুরটির সৌন্দর্যবর্ধন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরটি আবারও তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরে পাবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
