ভোলায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ।। ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলায় শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন জেলার শিশু, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। রাজধানীতে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পৌর প্রশাসক মো. বেলাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক ইকবাল হোসেন, জেলা শিশু একাডেমির কর্মকর্তা আখতার হোসেন, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান, দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক শওকত হোসেন এবং ভোলা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটন।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশুরাই ভবিষ্যতের নাগরিক—তাই তাদের সুরক্ষা ও বিকাশে এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলা ও শিশুদের মেধা-মনন বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা তুলে ধরা হয়। সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে শিশু একাডেমির দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের কথাও আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভোলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
