সর্বশেষঃ

পলাতক আসামির মিলে সরকারি বরাদ্দ, ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলায় একের পর এক ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ফেরারি আসামিদের মিলের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহের চুক্তি সম্পাদনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আইন অমান্য করে এই চুক্তি করা ও অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ বা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, ভোলা সদরের ‘তাসনীম এগ্রো এন্ড অটো রাইস মিল’-এর স্বত্বাধিকারী মোসাঃ রোজিনা আক্তার এবং তার স্বামী মোঃ মনজুরুল আলম। ‘ইউনাইটেড মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়। ভোলা থানা ও আদালতে উক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সাজা পরোয়ানা মুলতবি রয়েছে। এর মধ্যে জি.আর মামলা নং-৩৯৬/২০২১, ২০৪/২০২৩, ৬২২/২০২১, ৫৮৬/২০২১, সি.আর মামলা এবং ভোলা সেশন জজ আদালতের সেশন কেস নং-১৮০/২০২০ ও ২৭৮/২০২০-এ আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তারা এতদিন পলাতক রয়েছেন।

অথচ খাদ্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ তোয়াক্কা না করে এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও, তাদের রাইস মিলের অনুকূলে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ২০২৬-এর আওতায় ১,৭০৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের মূল চুক্তি সম্পাদন করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। শুধু তাই নয়, গত জুন ও সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক স্মারকের মাধ্যমে তাদের আরও অতিরিক্ত চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভোলা খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরোয়ার আমিন সনি গণমাধ্যমের সাথে এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আইনগত এই অনিয়ম ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ আরিফুর রহমান গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ সরোয়ার আমিন। মহা পরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ঢাকা। পরিচালক, সংগ্রহ বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তর ঢাকা। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বরিশাল। জেলা প্রশাসক, ভোলা। পুলিশ সুপার, ভোলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভোলা। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভোলা সদর, থানা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ভোলা সদর। শাখা ব্যবস্থাপক সোনালী ও রূপালী ব্যাংক, ভোলা।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের চুক্তি বাতিল, আসামিদের গ্রেফতার এবং তাদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে হাইকোর্টে রিট পিটিশনসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।