সর্বশেষঃ

ভোলায় শ্যালক-ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার অভিযোগে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শ্যালক ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা ও মামলার আসামিদের স্বজনরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের মালের হাট বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের তালুকদার বাড়ির সোহরাব তালুকদারের সঙ্গে একই বাড়ির জাহানারা বেগমের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিসি বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সুরাহা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে জাহানারা বেগমের মেয়ে কুলসুম বেগম সোহরাব তালুকদার ও তাঁর ভগ্নিপতি সেলিম মাতব্বরের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে সোহরাব তালুকদারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই কুলসুম বেগম তাঁর ভাশুর ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এদিকে, মামলার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ ও ৫ নম্বর সাক্ষী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মামলার ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো ধরনের বক্তব্য না নিয়েই মামলায় তাঁদের সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁরাও মামলাটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে মামলার বাদী কুলসুম বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুবায়ের আহমেদ বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে আইন অনুযায়ী বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোলা পুলিশ সুপার (এসপি) শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মামলার আসামিরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।