শারীরিক নির্যাতনের শিকার চরগুমানী স্কুলের শিক্ষার্থী আফরিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে

রাফসান জনী, ভোলা
ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরগুমানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার চিকিৎসা শেষে আজ বাড়ি ফিরেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারার অভিযোগে শিক্ষক মেহেদী হাসান তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
পরিবারের ভাষ্য, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে ক্লাস চলাকালে পড়া না পারায় আফরিনকে শিক্ষক মেহেদী হাসান শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলে ২০ সেপ্টেম্বর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় বলে জানান আফরিনের বাবা মোহাম্মদ শহীদ।
মোহাম্মদ শহীদ বলেন, “আমার মেয়ে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। তবে ঘটনার পর থেকে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা সাত দিনের সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্কুল থেকে বাদ দিতে হবে। তিনি যদি স্কুলে বহাল থাকেন, তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরগুমানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন বলেন, বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আফরিনের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
