সর্বশেষঃ

সৌদি আরবে ভবন থেকে পড়ে ফিরোজের মৃত্যু, দেশে লাশ ফেরাতে জটিলতা

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশনে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন এখন কান্নায় পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন ফিরোজ আলম (যুবক)। তবে আইনি জটিলতা ও আর্থিক সংকটে তাঁর মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ফিরোজ আলম চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে তাঁর এমন মৃত্যুতে দিশেহারা স্বজনেরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা ও সুদের টাকা নিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান ফিরোজ। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঘটনার দিন একটি ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত উঁচু ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়।

ফিরোজের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে মরদেহ আটকে থাকায় শেষবারের মতো স্বজনের মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

কাঁদতে কাঁদতে ফিরোজের স্ত্রী বলেন, সংসারের সুখের জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। সন্তানরা যেন অন্তত শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখতে পারে—এ জন্য তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ফিরোজের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিদেশে মরদেহ ফেরত আনার আনুষ্ঠানিকতা ও খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাঁদের নেই।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া গেলে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।