ভোলা জেলা ঐক্য ফোরামের উপজেলা কমিটি গঠন লালমোহনে চা-চক্র ও মতবিনিময় সভা
চরফ্যাশনে ডাব ব্যবসায়ী হত্যা: দুই আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার গামছা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণে ডাব ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রাঢ়ী (৫০) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শশীভূষণ থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শশীভূষণ উপজেলার কলমি ইউনিয়নের উত্তর চর মঙ্গল গ্রামের মৃত কাদের দালালের ছেলে মো. দুলাল দালাল (৫০) এবং একই এলাকার মৃত মোনাফ দালালের ছেলে মো. হেমায়েত (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে ডাব ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে শশীভূষণ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে পুলিশের একাধিক দল গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুলাল ও হেমায়েতকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুলাল ও হেমায়েত আলাউদ্দিনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে কী কারণে আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। ওই বিরোধের জেরেই আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন আলাউদ্দিন। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
