সর্বশেষঃ

ভোলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

মো: মঞ্জুর আলম : 

ভোলায় স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম ও হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মরদেহে আগুন দেওয়ার মামলায় মো. বশির নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বশির ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুসাকান্দি গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে পরদিন ভোর সাড়ে ৩টার মধ্যে যে কোনো সময় বশির তার স্ত্রী বিলকিসকে নিজ বসতঘরে হত্যা করেন। হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পরে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বিলকিসের মুখ, গলা, ঘাড়, বুক ও পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর বশির তাদের দুই সন্তান- ৯ বছর বয়সী খাদিজা খাতুন ও দেড় বছর বয়সী মো. ইমরানকে বাড়িতে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পলাতক থাকার পর ২০২৫ সালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বশিরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় উল্লেখযোগ্য সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন্স), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা; যিনি মামলার তদন্তের সময় ভোলার সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. হাবিবুর রহমান (বাচ্চু)। আসামিপক্ষে সর্বশেষ আইনজীবী ছিলেন অতীন্দ্র লাল ব্যানার্জী।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।