৬৬ বছর নখ না কেটে বিশ্বরেকর্ড, শ্রীধরের পাঁচ নখের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট

নখ বড় করারও যে বিশ্বরেকর্ড হতে পারে, তা করে দেখিয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনের বাসিন্দা শ্রীধর চিল্লাল। বাঁ হাতের পাঁচটি নখ ৬৬ বছর না কেটে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নখের রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীধরের পাঁচটি নখের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ছিল ৯০৯ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার, অর্থাৎ প্রায় ২৯ ফুট ১০ ইঞ্চি। দৈর্ঘ্যের বিচারে এটি প্রায় তিনতলা একটি ভবনের সমান।
শ্রীধরের প্রতিটি নখ আলাদাভাবে মাপা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ছিল বুড়ো আঙুলের নখ—১৯৭ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার। মধ্যমার নখের দৈর্ঘ্য ছিল ১৮৬ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার, অনামিকার ১৮১ দশমিক ৬, কনিষ্ঠার ১৭৯ দশমিক ১ এবং তর্জনীর ১৬৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।
তবে এই অস্বাভাবিক রেকর্ডের পেছনে রয়েছে একটি পুরোনো ঘটনা। ১৯৫২ সালে শ্রীধরের বয়স ছিল ১৬ বছর। সে সময় স্কুলে এক বন্ধুর অসাবধানতায় এক শিক্ষকের লম্বা নখ ভেঙে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নখের যত্ন ও তা বড় রাখার গুরুত্ব বোঝান।
শিক্ষকের সেই কথাই শ্রীধরের কাছে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর তিনি বাঁ হাতের নখ কাটা বন্ধ করে দেন। বছরের পর বছর ধরে যত্ন নিয়ে নখগুলো বড় করতে থাকেন। দীর্ঘ ৬৬ বছর পর তাঁর এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসই তাঁকে এনে দেয় বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি।
শ্রীধরের গল্পটি শুধু অদ্ভুত একটি রেকর্ডের নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো একটি লক্ষ্য ধরে রাখার এক বিরল উদাহরণও। তবে এমন দীর্ঘ নখ দৈনন্দিন জীবনযাপন ও স্বাভাবিক কাজকর্মে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
দীর্ঘদিন নখ না কাটার এই রেকর্ড শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেরও অংশ হয়ে ওঠে। ব্যতিক্রমী সেই নখই তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় স্থায়ী জায়গা করে দেয়।
