খতিয়ান তুলে পকেট ভারী করছে অফিস সহকারী, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মোঃ আরিফ ,চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি।।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মো. মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত কোনো সেবা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান উত্তোলনের নিয়ম নেই। নির্ধারিত সরকারি ফি দিয়ে জেলা রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ান সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়ম উপেক্ষা করে অফিস সহকারী মো. মোস্তফা নিজেই খতিয়ান সংগ্রহ করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে ব্যক্তিগতভাবে টাকা আদায়ের কারণে সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি কর অনলাইন করা এবং বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহসহ প্রায় প্রতিটি সেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা প্রত্যাশী। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকায় অফিস সহকারী মো. মোস্তফা অফিসের কার্যক্রমে একক প্রভাব বিস্তার করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছেন। ভূমি কর অনলাইনের জন্য ১০০ টাকা, খতিয়ান উত্তোলনের জন্য প্রতিটি খতিয়ানে ২০০ টাকা এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে সেবা বিলম্বিত করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা কিংবা পরে আসতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভূমি সেবা প্রত্যাশী জানান, তারা দিয়ারা ও এসএ খতিয়ান সংগ্রহ করতে চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহকারী মো. মোস্তফা প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সেবা দেওয়া হয় না কিংবা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো হয়। একইভাবে কোনো নথিপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করতেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
চর মানিকা ইউনিয়নের উত্তর চর মানিকা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, ‘আমি উত্তর চর মানিকা মৌজার একটি খতিয়ান তুলতে ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহকারী মোস্তফা আমাকে বলেন, ২০০ টাকা না দিলে তিন ঘণ্টা দেরি হবে। পরে বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিলে তিনি মোবাইল ফোনে খতিয়ানের ছবি তুলে একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠিয়ে দেন। পরে আমি ওই দোকান থেকে খতিয়ানের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করি। ভূমি অফিসে কোনো কাজ নিয়ে গেলেই এই মোস্তফার কারণে হয়রানির শিকার হতে হয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে ভূমি সেবা ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মচারীর কারণে সাধারণ মানুষকে এখনও অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী মো. মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমাদের অফিসে এসে অনেকেই অনলাইনে দাখিলা কাটলে সেই টাকাটাই দেয়। কেউ খতিয়ান নিতে আসলে টাকা নেয়া হয় না।
চর মানিকা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কমলেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমি এই অফিসে যোগদান করার পর খতিয়ান সংগ্রহের বিষয়ে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছি। নোটিশে রেকর্ড রুম থেকে সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। যদি আমার অগোচরে অফিস সহকারী খতিয়ান দিয়ে থাকে তাহলে তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনিন্দ্য মন্ডল বলেন, ‘সাধারণত ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান উত্তোলন করার নিয়ম নেই। রেকর্ড রুম থেকে সরকারি নির্দিষ্ট ফি দিয়ে খতিয়ান সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী কোন অনিয়ম করে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
